ওপেক প্লাস ২০২৭ সালে সদস্য দেশগুলোর অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনের নীতিকাঠামো নির্ধারণে একটি পদ্ধতি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার ২২ সদস্যবিশিষ্ট জোটটি জানায়, ওপেক সদর দপ্তরকে প্রতিটি দেশের সর্বোচ্চ উত্তোলন সক্ষমতা মূল্যায়নের একটি কাঠামো তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ মূল্যায়নের ভিত্তিতে ২০২৭ সালে সদস্য দেশগুলোর উত্তোলন নিয়ে একক একটি নীতিকাঠামো তৈরি করা হবে। খবর রয়টার্স।
সদস্য দেশগুলোর জ্বালানি তেল উত্তোলনের ভিত্তি নতুন করে নির্ধারণ নিয়ে কয়েক বছর ধরেই আলোচনা করছে ওপেক প্লাস। এ ভিত্তির ওপর নির্ভর করেই প্রতিটি দেশ উত্তোলন হ্রাস বা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়।
এক সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকের মতো কিছু সদস্য দেশ সম্প্রতি তাদের উত্তোলন সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এ কারণে এসব দেশ কোটা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে আফ্রিকার কিছু দেশের উত্তোলন কমে যাওয়ায় তাদের কোটা পূরণ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে উত্তোলন লক্ষ্য নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে অ্যাঙ্গোলা ওপেক প্লাস জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক ও রাশিয়াসহ অন্যান্য সহযোগী দেশ নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস। জোটটি বর্তমানে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় অর্ধেক উত্তোলন করে। ২০২২ সাল থেকে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংগঠনটি তিন দফায় উত্তোলন হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে দুটি ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে এবং একটি চুক্তি বর্তমানে আটটি দেশ ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করছে। বুধবারের বৈঠকে এসব চুক্তিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
এদিকে জোটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শনিবার একটি আলাদা বৈঠকে জুলাইয়ে জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ সময় উত্তোলন বাড়ানো হতে পারে দৈনিক ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল। মে ও জুনেও একই পরিমাণ উত্তোলন বাড়ানো হয়েছে।
ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর উত্তোলন বৃদ্ধির ধারা জ্বালানি তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি করেছে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণেও পণ্যটির বাজারদর ছিল নিম্নমুখী। তবে ট্রাম্পের শুল্কনীতি সৃষ্ট উত্তেজনা বুধবার নতুন মোড় নিয়েছে। বাণিজ্যবিষয়ক মার্কিন এক আদালত ট্রাম্পের শুল্ক পরিকল্পনাকে অবৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এ রায়ের পর গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১ ডলার।
এর মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ১ ডলার ১২ সেন্ট। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৬৬ ডলার ২ সেন্ট। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে ১ ডলার ১৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ৮ শতাংশ। ব্যারেলপ্রতি মূল্য পৌঁছেছে ৬২ ডলার ৯৮ সেন্টে।
সুইডেনভিত্তিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এসইবির চিফ কমোডিটিস অ্যানালিস্ট বিয়র্ন শিলড্রপ বলেন, ‘ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাড়তে পারে। ফলে চাহিদাও ঊর্ধ্বমুখী হবে।’